মঙ্গলবার , ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. ধর্ম
  7. নির্বাচনী হালচাল
  8. ফিচার
  9. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ

জবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নেই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কোনো বই

প্রতিবেদক
admin
অক্টোবর ১২, ২০২১ ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় না বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকেন্দ্রিক কোনো বই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে শিক্ষকদের রচিত অনেকগুলো বই প্রকাশিত হলেও সেগুলোও পাওয়া যায় না জবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে।কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কোনো বই গ্রন্থাগারে রাখা হয়নি। গ্রন্থাগারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর চাহিদা অনুযায়ী একাডেমিক বই থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে রচিত কোনো বই সেখানে নেই। প্রতি বছর বই কেনার জন্য বিভাগগুলোকে যে বাজেট দেয়া হয়, তাতে একডেমিক বই কিনতেই প্রায় সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্য কোনো বই কেনার সুজোগ থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আপন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে রচিত বই খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে সকালের সময়ের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ক্যাটালগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্ণার, মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারসহ সব জায়গায় খুঁজেও তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কোনো বই খুঁজে পাননি।সকালের সময়কে আপন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সে সম্পর্কিত বইয়ের খোঁজে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে। কিন্তু অনেক খুঁজেও পেলাম না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সম্পর্কিত কোনো বই তার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই, এটা মানা যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহে ভাটা পড়ে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে বইয়ের খোঁজে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে। কিন্তু অনেক খুঁজেও পাইনি। শুনেছিলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত অনেকগুলো বই প্রকাশ করেছেন। সেগুলোও খুঁজে পেলাম না।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে কি শুধুই একাডেমিক বই  পড়বো? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে। সেটা জানাও আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। একটা ইতিহাস সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কিত কোনো বই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই, এটা মেনে নেওয়া যায়না। অতি দ্রুত এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী শহীদ কাদেরের সম্পাদনায় ‘ব্রাহ্ম স্কুল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের অধ্যাপক মির্জা হারুণ-অর-রশিদ রচিত ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির জগন্নাথ কলেজ’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে রচিত দুইটি প্রকাশিত হলেও সেগুলোও নেই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চললেও বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। পরীক্ষার সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রন্থাগার থেকে বই সংগ্রহ করে পড়ার সুযোগ না পাওয়ায়  শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রূপা বলেন, আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে, অথচ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রয়েছে। আমরা বই সংকটে নানাভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। সব বই তো বাইরে থেকে সংগ্রহ করা সম্ভবও না। পরীক্ষা চলার সময়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখার এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাহা বলেন, আমাদের অনেক বই রয়েছে যেগুলো বাইরে থেকে সংগ্রহ করা বা কেনা অনেকটাই অসম্ভব। কিন্তু পরীক্ষার সময়েও লাইব্রেরি বন্ধ, আমরা বইয়ের অভাবে অনেক কিছুই পড়তে পারছিনা। সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।এবিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ক্লাস ও শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গ্রন্থাগার বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যাল খুলে দিয়ে ক্লাস শুরু হলে গ্রন্থাগারও খুলে দেওয়া হব।

গ্রন্থাগারে বই না থাকার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক মো. এনামুল হক সকালের সময়কে বলেন, আসলে সব বই ডিপার্টমেন্টগুলো তাদের বাজেট থেকে কিনে আমাদের দেয়। আমাদের নিজেদের কোনো বই কেনার রাইটস নেই। সাধারণত একাডেমিক বইগুলোই তারা আমাদের দেয়। সেজন্য হয়তো এধরণের বইগুলো আমাদের সংগ্রহে নেই। তবে জগন্নাথ কলেজের ইতিহাস সম্পর্কিত একটা বই থাকার কথা। ভালোভাবে খুঁজে দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরী ১৮৫৮ সালে পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জগন্নাথ পাঠাশালা। পাঠশালা থেকে দুই বছরের মাথায় ‘জগন্নাথ স্কুল’ শুরু হয়। মাঝে কিছুদিনের জন্য নাম রাখা হয়েছিল ব্রাহ্ম স্কুল। পুনরায় ১৮৭৮ সালে জগন্নাথ স্কুল, ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ কলেজ, ১৯২১ সালে জগন্নাথ ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, ১৯৬৮ সালে সরকারি জগন্নাথ কলেজ, সর্বশেষ ২০০৫ জগন্নাথ কলেজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার পর জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের প্রায় ৫০ শতাংশ দুর্লভ ও মূল্যবান বই দিয়ে দেওয়া হয় ঢাবি গ্রন্থাগারে।

সর্বশেষ - রাজনীতি